শেষ হতে যাচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট।’ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ফলে দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও এক বছর চুক্তির মেয়াদ বজায় রাখার প্রস্তাব দিলেও এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কার্যকর থাকা পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ যদি নবায়ন করা না হয় বা নতুন কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে দুই দেশ সীমাহীন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে ১০ বছরের জন্য এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটি পাঁচ বছর বাড়ানোর যে সুযোগ ছিল, তা রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে ব্যবহার করে। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের জন্য মোতায়েন করা কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১,৫৫০টি।
নিউ স্টার্টের মেয়াদ শেষ হলে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা ও পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর পারস্পরিক আস্থা কমে যাবে। কারণ এই চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক ঘাঁটিতে পরিদর্শন, তথ্য আদান–প্রদান এবং অস্ত্রের সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কে আগাম জানানো হতো।
পরবর্তী করণীয় ঠিক করা পর্যন্ত বর্তমান চুক্তির শর্তগুলোই আরও এক বছর বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে সেটি আগের মতো বহাল রাখার বদলে আরও উন্নত ও নতুন একটি চুক্তি করা উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পারমাণবিক প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। ইতিমধ্যে ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ নামের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহও এই কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন তারা।
শেষ মুহূর্তে নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দুটি কারণে তেমন মনে হচ্ছে তাঁদের। একদিকে চুক্তির শর্তেই এমন কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে এ ধরনের নথি তৈরিতে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আলোচনা দরকার হয়, যা দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে কোনো সমঝোতা না হলে বিশ্ব এক নতুন অস্থিরতার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





