হ্যাঁ বা না ভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচারণা কার্যক্রম থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে আবারও আমলাদের হাতেই দেশের চাবি চলে যাচ্ছে— এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া কার্যত কর্মীবিহীন হয়ে পড়ছে এবং নির্বাচিত সরকার আরও বেশি আমলানির্ভর হয়ে উঠার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর বাসিন্দা গাজী মাজাহারুল ইসলাম বলেন, স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনবান্ধব করতে গিয়ে এত মানুষের জীবন দিতে হয়েছে। তার মতে, হ্যাঁ ভোট হেরে গেলে দেশ আবার পুরোপুরি আমলাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার এমনিতেই আমলাদের ছাড়া চলতে পারে না, আর এই পরিস্থিতিতে তা আরও পরিপক্ক রূপ নেবে। আমলাদের ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়ে অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। দেশ ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমলা ও নির্বাচিতদের পকেট ঠিকই ভরবে—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তেরখাদিয়া এলাকার ব্যবসায়ী মো. নাসিম বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং আমলা ও হাসিনার মতো মুখোশধারী জনপ্রতিনিধিদের জন্য। তার অভিযোগ, তারা জনগণের জন্য এক মিনিটও ভাবেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত। আরেকটি পরোক্ষ দল সরকারে যারা আছেন, তারা জুলাই ধারণকারীদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। পাশাপাশি আরেকটি পক্ষ পালিয়ে যাওয়া দলকে আবার রাজনীতিতে ফেরানোর সুযোগ তৈরিতে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি বাস্তবায়নে ব্যস্ত। মো. নাসিমের মতে, দেশ বাঁচাতে কোনো কার্যকর প্রচারমাধ্যম বা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। সাধারণ মানুষের কাছে হ্যাঁ বা না ভোটের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব সরকার বা নির্বাচন কমিশনের নেওয়া উচিত ছিল।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মনির হোসেন মাহিন বলেন, শেষ সময়ে নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তার মতে, এখানে হয়তো কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হ্যাঁ বা না ভোটের প্রচারণার বিষয়টি এত দ্রুত ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে, যা স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিনের রাজশাহী প্রধান ডালিম শান্ত বলেন, যারা দেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে চান, তারা না ভোটের পক্ষে অবস্থান নেবেন। আর যারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে, তারা রাষ্ট্র সংস্কার করতে চান। তার মতে, সরকারি প্রচারণা বন্ধ করে একটি পক্ষ আগের আমলাতান্ত্রিক ও স্বৈরশাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা বেসরকারি কোনো প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোট হেরে গেলে আগের শাসন ব্যবস্থা ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশি। একটি বিষয়ে সবাইকে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।




